Wednesday, November 9, 2016

কেউ কথা রাখেনি ( Bangla Kobita )

কেউ কথা রাখেনি
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভুক অমবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই বোষ্টুমি আর এলো না পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি । মামাবাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে ! নাদের আলি, আমি আর কত বড় হবো ? আমার মাথা এই ঘরের ছাদ ফুঁরে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায় তিন প্রহরের বিল দেখাবে ? একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্কর বাড়ির ছেলেরা ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি ভেতরে রাস উৎসব অবিরল রঙ্গের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পড়া ফর্সা রমণীরা কতরকম আমোদে হেসেছে আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি ! বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন আমরাও... বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস উৎসব আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবে না ! বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল, যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে সেদিন আমার বুকেও এরকম আতরের গন্ধ হবে ! ভালবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড় বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮ নীলপদ্ম তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ এখনো সে যে কোন নারী ! কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনা !

বন্ধু ( Speech About Friend By Famous )

বন্ধু

বন্ধুত্ব নিয়ে বিখ্যাত ৪২ টি উক্তি:- ১. আমার সব থেকে ভালো বন্ধু হল আয়না, কারন আমি যখন কাঁদি তখন সে হাঁসে না। চার্লি চ্যাপলিন ২. আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৩. আমার ভালো বন্ধুদের কথা মনে করে আমি যতোটা সুখী হতে পারি, অন্য কোনোভাবে ততোটা সুখী হতে পারি না। -উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ৪. একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। -অস্কার ওয়াইল্ড ৫. আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব। -অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ৬. আমার বন্ধুরা আমার সাম্রাজ্য। -এমিলি ডিকেনসন ৭. দুর্ভাগ্যবান তারাই যাদের প্রকৃত বন্ধু নেই। -অ্যারিস্টটল ৮. আলোতে একাকী হাটার চেয়ে বন্ধুকে নিয়ে অন্ধকারে হাটা উত্তম। -হেলেন কিলার ৯. সবকিছুর শেষে আমরা আমাদের শত্রুদের বাক্য মনে রাখবো না, কিন্তু বন্ধুর নীরবতা মনে রাখবো। -মার্টিন লুথার কিং ৯. বন্ধুত্ব গড়তে ধীরগতির হও। কিন্তু বন্ধুত্ব হয়ে গেলে প্রতিনিয়তই তার পরিচর্যা করো। -সক্রেটিস ১০. বন্ধুদের সংখ্যার ওপর সত্যিকারের বন্ধুত্ব নির্ভর করে না। বরং এটি বন্ধুদের বিশ্বাস ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে। -স্যামুয়েল জনস্টন ১১. সত্যিকারের বন্ধুত্ব গাছের ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার মতো বাড়ে। -জর্জ ওয়াশিংটন ১২. বন্ধুত্ব হচ্ছে ডানা বিহীন ভালোবাসা। -লর্ড ১৩. অন্ধকারে একজন বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা আলোতে একা হাঁটার চেয়ে ভালো। হেলেন কেলার ১৪. বন্ধু পাওয়া যায় সেই ছেলেবেলায় স্কুল-কলেজেই। প্রাণের বন্ধু। তারপর আর না। আর না? সারা জীবনে আর না? জীবন জুড়ে যারা থাকে তারা কেউ কারো বন্ধু নয়। তারা দু'রকমের। এনিমি আর নন-এনিমি। নন-এনিমিদেরই বন্ধু বলে ধরতে হয়। শিবরাম চক্রবর্তী ১৫. কখনো কোন বন্ধুকে আঘাত করো না, এমনকি ঠাট্টা করেও না। সিসেরো ১৬. মনে রেখো তোমার শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু, আর তোমার শত্রুর বন্ধু তোমার শত্রু। হযরত আলী (রাঃ) ১৭. আগন্তুকের কোনো বন্ধু নেই, আরেকজন আগন্তুক ছাড়া। শেখ সাদি ১৮. তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তি চাও, তোমাকে তোমার শত্রুদের সাথে কাজ করতে হবে, তাহলেই সে তোমার সহকর্মী হতে পারবে। নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯. আমার বন্ধুর জন্যে সবচেয়ে বেশি যা করতে পারি তা হলে শুধু বন্ধু হয়ে থাকা।তাকে দেয়ার মতো কোন সম্পদ আমার নেই।সে যদি জানে যে আমি তাকে ভালবেসেই সুখী, সে আর কোন পুরস্কারই চাইবে না। এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কি স্বর্গীয় নয়? - হেনরি ডেভিড থিওরো ২০. একজন বিশ্বস্ত বন্ধু দশ হাজার আত্মীয়ের সমান। - ইউরিপিদিস [গ্রীক নাট্যকার] ২১. বন্ধত্ব একমাত্র সিমেন্ট যা সবসময় পৃথিবীকে একত্র রাখতে পারবে। - উইড্রো উইলসন ২২. কোন মানুষই অপ্রয়োজনীয় নয় যতোক্ষন তার একটিও বন্ধু আছে। - রবার্ট লুই স্টিভেন্স ২৩. একজন সত্যিকারের বন্ধু, কখনো বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়না। …..চার্লস ল্যাম্ভ। ২৪. প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব। …….এমারসন। ২৫. বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো। ………..নিটসে। ২৬. গোপনীয়তা রক্ষা না করে চললে, বন্ধুত্ব টিকে না। …….চার্লস হেনরি ওয়েব। ২৭. . ''কোন মানুষই অপ্রয়োজনীয় নয় যতোক্ষন তার একটিও বন্ধু আছে''। ________রবার্ট লুই স্টিভেন্স ২৮. সবকিছুর শেষে আমরা আমাদের শত্রুদের বাক্য মনে রাখবো না, কিন্তু বন্ধুর নীরবতা মনে রাখবো। ……মার্টিন লুথার কিং। ২৯. বন্ধুত্ব গড়তে ধীরগতির হও। কিন্তু, বন্ধুত্ব হয়ে গেলে প্রতিনিয়তই তার পরিচর্যা করো। …….সক্রেটিস। ৩০. বন্ধুদের সংখ্যার ওপর সত্যিকারের বন্ধুত্ব নির্ভর করে না। বরং এটি বন্ধুদের বিশ্বাস ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে। ……স্যামুয়েল জনস্টন। ৩১. নিয়তি তোমার আত্মীয় বেছে দেয়, আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু। জ্যাক দেলিল , ফরাসী কবি ৩২. আমার ভালো বন্ধুদের কথা মনে করে আমি যতোটা সুখী, অন্য কোনো ভাবে ততোটা সুখী হতে পারিনা। …….উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। ৩৩. একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ……অস্কা ৩৪. বন্ধু কি? এক আত্মার দুইটি শরীর। - এরিস্টটল ৩৫. আহ্, কী ভালোই না লাগে- পুরনো বন্ধুর হাত। মেরি এঙলেবাইট ৩৬. নিয়তি তোমার আত্মীয় বেছে দেয়, আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু !! ______ জ্যাক দেলিল ৩৭. একটি বই একশটি বন্ধুর সমান.. কিন্তু একজন ভালো বন্ধু পুরো একটি লাইব্রেরির সমান... - ডাঃ এ পি জে আব্দুল কালাম ৩৮. ''সর্বোৎকৃষ্ট আয়না হলো একজন পুরনো বন্ধু''। ________ জর্জ হা ৩৯. বন্ধুদের মধ্যে সব কিছুতেই একতা থাকে। - প্লেটো ৪০. যদি থাকে বন্ধুর মন গাং পাড় হইতে কতক্ষন। জীবনানন্দ দাশ ৪১. কাউকে সারা জীবন কাছে পেতে চাও? তাহলে প্রেম দিয়ে নয় বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রাখো। কারণ প্রেম একদিন হারিয়ে যাবে কিন্তু বন্ধুত্ব কোনদিন হারায় না উইলিয়াম শেক্সপিয়র ৪২.বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো। নিটসে

গুরুত্ব দিন আপনাকে যে ভালবাসে ( Love Story )

গুরুত্ব দিন আপনাকে যে ভালবাসে


এক মেয়ে আর এক ছেলে, একে অপরকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু মেয়েটা SMS, e ছেলেটাকে All time ( Ilove you, I miss you, I like you) ইত্যাদি,অনেক কথা বলত। এতে ছেলেটা বিরক্ত হত। একদিন তাদের মধ্য একটু রাগারাগি হয়। তাই, রাতে মেয়েটা, ছেলেটিকে ফোন দিচ্ছিল। ছেলেটি বিরক্তহয়ে,, ফোন Silent করে রেখে দেয়। এর পরই আসে একটা Massage. ছেলেটি তা না দেখেই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে...... মেয়েটার মায়ের ফোন আসলো। হ্যাঁ বলেন anti. মেয়েটার মা কাদঁছিল। কি হয়েছে anti....? রিমি আর নেই,ওর Accident হয়েছে। what....? কি বলছেন এসব...? হ্যাঁ ঠিকই বলছি। ছেলেটির মাথায় যেন, আকাশ ভেঁঙ্গে পড়ল। সে ফোনে দেখল একটা massege. তাতে লেখাঃ জান" খুব দেখতে ইচেছ করছিল তোমায়। তাই রাতে বাসা থেকে লুকিয়ে, তোমার বাসার সামনে এসেছিলাম। কিন্তু তুমি তো আমার কাছে আসলে না "জান"। তাই আমি মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যাচিছলাম। হঠাৎই.......... আমার Accident হয়ে গেল, (I am sorry....Jaan) ( মেয়েটা Accident এর পর, বেদনাকাতর মুহূর্তে, অনেক কষ্টে, ছেলেটিকে Massege টি দেয় এবং ছেলেটির জীবন থেকে চিরতরে, অনেক দুরে চলে যায় ) এটাই ছিল সত্যিকারের ভালোবাসা। তাই ভালোবাসাকে কেউ কখনো অবহেলা করনা।

আমরা করব জয় একদিন ( Motivational )

আমরা করব জয় একদিন
* বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান মুম্বাইতে এসে বেঞ্চে ঘুমাতেন, প্রতিদিন কাজ খোজার জন্য বের হওয়ার আগে বন্ধুর কাছে ২০ টাকা করে ধার নিতেন!!
* হলিউড অভিনেতা ব্রাড পিট প্রথম জীবনে 'এল পল্লো লোসো' নামের এক রেস্টুরেন্টে মোরগের ড্রেস পরে হোটেলবয় এর কাজ করতো। * আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন মুচির দোকানে কাজ করতেন।
* আবুল কালাম (ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি) ছিলেন গরীব ঘরের সন্তান। তাঁর বাবা ছিলেন একজন মাঝি। তবুও তিনি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন।
* নিকোলাস ক্রেজ 'ফেয়ারফ্যাক্স' থিয়েটারেপপকর্ন বিক্রি করতো।
* বিখ্যাত গায়ক বন জোভি প্রথম জীবনে বাড়িঘর সাজানোরডেকোরেটর ের কাজ করতো।
* হলিউড অভিনেতা 'ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো' খ্যাত জনি ডেপ ছোটোবেলায় রাস্তায় রাস্তায় বল পয়েন্ট কলম বিক্রি করতো !!
* আন্ড্রু কার্নেগী প্রচুর গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন। তিনি একটি খামারে কাজ করতেন। পরে তিনি আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন।
* থমাস এলভা এডিসনকে ছোটবেলায় সবাই বোকা, গাধা বলে রাগাত। তিনি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন না। তবু তিনি একজনবিখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন।
* ক্রিকেটার মাহেন্দ্রা সিং ধনী প্রথম জীবনে ট্রেনের টিকেট কাউন্টারে বসতেন । জীবন থেমে থাকে না, আপনি না চাইলেও সময় গড়াবেই। ভবিষ্যতকে আপনি মোকাবেলা করতেই হবে।
তাই অহেতুক আর কোনঅজুহাত নয়, এবার সময় বিশ্বকে জয় করার। সাহস নিয়ে বলুন, "আমি পারবোই" ।

প্রতিদান ( Bangla Kobita )

প্রতিদান 
– জসীমউদ্দীন
আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী; পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি; দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হয়েছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর ।
আমার একুল ভাঙ্গিয়াছে যেবা আমি তার কুল বাধি, যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি; সে মোরে দিয়েছে বিষ ভরা বান, আমি দেই তারে বুক ভরা গান; কাটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর, আপন করিতে কাদিঁয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর । মোর বুকে যেবা কবর বেধেছে আমি তার বুক ভরি, রঙ্গীন ফুলের সোহাগ জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি। যে মুখে সে নিঠুরিয়া বাণী, আমি লয়ে সখী, তারি মুখ খানি, কত ঠাই হতে কত কি যে আনি, সাজাই নিরন্তর, আপন করিতে কাদিয়া বেড়াই যে মোরে করিয়াছে পর ।

ভাল ফটোগ্রাফির টিপস ( Photography Basic Tips )


ভাল ফটোগ্রাফির টিপস
- Collected from Internet 
ভালো ফটোগ্রাফার হবার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন। প্রথম যে জিনিসটা প্রয়োজন সেটা হলো ভালো একটা ক্যামেরা। তবে এটি যে খুবই দামী ডিএসএলআর ক্যামেরা হতে হবে এমন কোন কথা নেই। এরপর প্রয়োজন হবে ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং সেই সাথে সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি। রাতারাতি ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায় না। তাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য্য, চেষ্টা ও আগ্রহ। শৌখিন বা পেশাগত সব ফটোগ্রাফারদের কাজে আসবে এমন ১২০টি টিপস এখানে দেওয়া হল। 1. নতুন ক্যামেরার প্যাকেঁটি এমনভাবে খুলুন যাতে ক্যামেরাটি আবার রিপ্যাক করা যায় এবং প্যাকেটি যত্ন করে রেখে দিন। নতুন ক্যামেরা প্রথমদিকে অতি যত্নের সাথে ব্যাবহার করুন যেন কোন স্পট না পড়ে। কারণ কোন সমস্যা হলে ক্যামেরাটি তখন প্যাকেটসহ ফেরত দিতে পারবেন। 2. নতুন ক্যামেরায় প্রথমবারের সেটিংগুলো, যেমন: ব্যাটারি ফুলচার্জ, মেমোরি কার্ড ইনস্টল, তারিখ ও সময়, ভাষা নির্বাচন ইত্যাদি ইউজার গাইড দেখে সঠিকভাবে করুন। 3. আপনার ক্যামেরাকে ভালোভাবে জানতে ও বোঝতে হলে ম্যানুয়েলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিকবার পড়ুন। 4. ক্যামেরার কোন বাটন বা অপশন না বোঝলে আন্দাজে পরীক্ষা-নিরিক্ষা না করে ম্যানুয়েল দেখে জেনে নিন। 5. শুরু থেকেই সঠিকভাবে ক্যামেরা ধরার অভ্যাস করুন । দক্ষ ফটোগ্রাফার হিসেবে ভালো ছবি তোলার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 6. ক্যামেরার জন্য মজবুত ও টেকশই একটি ব্যাগ কিনুন। ব্যাগটি এমন হওয়া উচিত যাতে এর মধ্যে ক্যামেরার আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র রাখা যায় এবং বাইরের চাপ, আঘাত ও বৃষ্টি থেকে ক্যামেরাকে রক্ষা করে। 7. ক্যামেরা লেন্সের ব্যাগে সিলিকা জেলের একটা প্যাকেট রাখুন, তাতে ক্যামেরা ও লেন্সে ফাঙ্গাস আসার সম্ভাবনা থাকবে না। 8. এমন ক্যামেরা না কেনাই ভালো যার ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ড সহজে পাওয়া যায় না। সম্ভব হলে অতিরিক্ত একটি ব্যাটারি প্রথম দিকেই কিনে রাখুন। কারণ মডেল পুরানো হয়ে গেলে তখন আর ব্যাটারি পাওয়া যায় না। 9. ক্যামেরা নিয়ে বাইরে যাওয়ার আগে ব্যাটারির চার্জ ও মেমোরি স্পেস চেক করুন এবং ক্যামেরা সংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র সাথে আছে কিনা দেখে নিন। 10. এসি রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ক্যামেরা বের করবেন না বা খুলবেন না। কারণ এতে ল্যান্সে কনডেন্স আসতে পারে। 11. ক্যামেরা নিয়ে বের হওয়ার সময় যে কোন প্রতিকূল আবহাওয়া ও অবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে বের হউন। 12. খুব ঠান্ডা ও গরম জায়গায় ক্যামেরা রাখবেন না। এমনকি সরাসরি সূর্যের আলো ও কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাশেও ক্যামেরা রাখা উচিত নয়। 13. আপনার ক্যামেরার বিভিন্ন অপশন ও ফিচারের চিহ্ন ও সংকেতগুলো শুরুতেই ম্যানুয়েল দেখে জেনে নিন। 14. হালকা কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় ছবি তুলতে শাটার বাটন চাপ দেওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ রাখুন, কারন সেসময় ক্যামেরা কাঁপার সম্ভাবনা বেশি। 15. নতুন কোন দেশ বা শহরে গেলে প্রথমে ভিউ কার্ডের স্থানীয় দোকান ভিজিট করুন। ছবি তোলার কিছু আইডিয়া পেয়েও যেতে পারেন। 16. বিশেষ করে এসএলআর ক্যামেরায় লেন্স খোলার পর ক্যামেরা মাউন্ট হাত বা কিছু দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে এর মধ্য দিয়ে ধুলোবালি বা সূর্যের আলো ঢুকতে না পারে। 17. আপনার ক্যামেরার ডিসপ্লের উপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। কারণ ছবির বাস্তব উজ্জলতা ও কালার কোয়ালিটি ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত হয় না। 18. ক্যামেরা ধরার সময় বাহু শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখুন অথবা আশেপাশে কোন সাপোর্ট থাকলে তার সাথে হাত লাগিয়ে শট নিন। 19. ম্যানুয়েল ফ্লাশ কেনার সময় ক্যামেরার সাথে ফ্লাশটি খাপ খায় কিনা জেনে নিন। এমন ধরনের ফ্লাশ কিনবেন না যার লাইটটিকে আপ-ডাইন করা বা চারপাশে ঘুরানো যায় না। ক্যামেরা ও ফ্লাশের জন্য সম্ভব হলে এক্সট্রা ব্যাটারি রাখুন। 20. মেমোরিকে সম্পূর্ণ খালি করে আবার ব্যবহারের আগে ফরমেট করুন। একটি বড় সাইজের পরিবর্তে দুইটি মাঝারি সাইজের মেমোরি ব্যবহার করুন। 21. ক্যামেরা ও লেন্স পরিষ্কারের জন্য তুলি, টিস্যু, ব্লোয়ার ও পরিষ্কার সুতি কাপড় ব্যবহার করুন। 22. আদ্রতাযুক্ত আবহাওয়ায় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ক্যামেরা ও লেন্সের বেশি যত্ন নিন। ক্যামেরা সবসময় শুষ্ক স্থানে রাখুন। 23. ক্যামেরার লেন্স ও এলসিডি ডিসপ্লে স্পর্শ করবেন না। হাতের ময়লা বিশেষ করে তেল জাতীয় কিছু লাগলে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে। 24. সমূদ্র সৈকতে লবনাক্ত পরিবেশ, বালি ও আদ্রতা থেকে রক্ষার জন্য ক্যামেরা বেশিক্ষণ খোলা রাখবেন না। ছবি তোলার পর ক্যামেরা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখুন। 25. ক্যামেরার ব্যাগটি মাঝে মাঝে পরিষ্কার করুন। ব্যাগের মধ্যে বালি বা ময়লা থাকলে ক্যামেরা ও লেন্সের জন্য ক্ষতি হবে। 26. ছবি তোলার সময় ক্যামেরার স্ট্রেপটি গলায় বা হাতের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখুন। অসাবধানতায় ক্যামেরাটি হাত থেকে ছুটে গেলেও অন্তত মাটিতে পড়বে না। 27. যে ব্র্যান্ড ও মডেলের ক্যামেরাটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা কেনার আগে ইন্টারনেটে রিভিউ দেখুন। সেখানে অনেক অজানা ও মূল্যবান তথ্য পেয়ে যেতে পারেন। 28. অতিরিক্ত ঠান্ডা ক্যামেরার এলসিডি ডিসপ্লে ও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। 29. আমরা অনেক সময় নিজের বা নিজেদের ছবি তোলার জন্য অপরিচিত লোকের হাতে ক্যামেরা তুলে দিই। দামী ক্যামেরা অপরিচিত লোকের হাতে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন, লোকটি হয়তো ছিনতাইকারীও হতে পারে। 30. কোন নতুন এলাকায় যাওয়ার আগে সেখানকার দর্শনীয় স্থান ও ছবি তোলার সুন্দর জায়গা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ রাখুন। 31. ছবি তোলার আগে সাবজেক্ট, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড, ভিউ অফ এঙ্গেল, এক্সপোজ ইত্যাদি নিয়ে পরিকল্পনা করুন। 32. ছবি তোলার আগে সম্ভব হলে সময় নিয়ে দৃশ্য ও সাবজেক্টের অনুকূলে ক্যামেরার ফিচার ও কমপোস সেটিং করুন। 33. সাবজেক্টের ব্যাকগ্রাউন্ড যতটুকু সম্ভব প্লেইন রাখার চেষ্টা করুন। এর কালার সাবজেক্টের কালারের চেয়ে যেন উজ্জল না হয়। 34. ব্যাটারি চার্জ ও মেমোরি স্পেস পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলে ভিউ পয়েন্ট, কমপোস ও এক্সপ্লোজার সামান্য পরিবর্তন করে একই সাবজেক্টের একাধিক ছবি তুলুন। পরে সবচেয়ে ভালো ছবিটি রেখে বাকীগুলো ডিলিট করতে পারবেন। 35. আপনার ক্যামেরার বিভিন্ন ফাংশন ও ফিচার দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে কিছু ছবি তুলে এগুলোর এফেক্ট জেনে রাখুন। পরবর্তীতে এগুলোর সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহার করতে পারবেন। 36. ফটোগ্রাফিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ”আলো”। তাই ছবির দৃশ্যে প্রথমেই আলোর উৎস, পরিমাণ, প্রতিফলন ইত্যাদি নিয়ে ভাবুন। 37. কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে প্রাকৃতিক আলোতে ছবি তোলার চেষ্টা করুন। 38. আলোর উৎস সাবজেক্টের পিছনে থাকলে ফ্লাশ ব্যবহার করুন। 39. কমপ্যাক্ট ক্যামেরার বিল্ড-ইন-ফ্লাশ সাধারণত ৫-১০ মিটারের বেশি কভার করে না। আপনার ক্যামেরার ফ্লাশের ক্ষমতা আগেই পরীক্ষা করে জেনে নিন। 40. অনেক ক্ষেত্রে একই সাবজেক্টের একটি Horizontal ও আরেকটি Vretical ছবি থাকলে ভালো হয়। 41. ছবি তোলার আগে ছবির সাবজেক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভালো ছবি তোলতে পারে যে ফটোগ্রাফার তিনি একজন ভালো Naturalistও বটে। 42. সাবজেক্টকে ফ্রেমে যতটুকু সম্ভব বড় রাখার চেষ্টা করুন এবং ফ্রেমের মাঝখানে না রেখে ১/৩ অবস্থানে রাখুন। 43. তাড়াহুড়ো না থাকলে সময় নিযে ছবি তুলুন। আগে দৃশ্য, সাবজেক্ট, আলোর উৎস, কমপোজ, এক্সপ্লোজার ইত্যাদি নিয়ে ভেবে তারপরে শট নিন। 44. জীবজন্তু, মানুষ ও শিশুর ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব কাছে গিয়ে এবং সাবজেক্টের আই লেভেল বরাবর ক্যামেরা ধরে ছবি তুলুন। 45. শট নেওয়ার আগে ক্যামেরা সাবজেক্টকে ঠিকমতো ফোকাস করেছে কিনা দেখে নিন। 46. সবসময় ক্যামেরার অপটিক্যাল জুম ব্যবহার করুন। ডিজিটাল জুমে ছবির কোয়ালিটি হ্রাস পায়। 47. সচরাচর যেসব এঙ্গেল থেকে ছবি তোলা হয় তার পরিবর্তে সম্ভব হলে কিছুটা ব্যতিক্রম এঙ্গেল থেকে ছবি তুলুন। 48. ফটোশপ বা এই জাতীয় কোন ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম যতটুকু সম্ভব শিখে নিন। 49. অপরিচিত কোন লোকের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। 50. গতিশীল সাবজেক্টের ছবি তোলার জন্য প্রয়োজন দ্রুত গতির শাটার স্পীড। কমপ্যাক্টের চেয়ে এস এল আর ক্যামেরায় এ ধরনের ছবি ভালো হয়। 51. ছবি তোলতে ক্যামেরার শুট বাটন সম্পূর্ণ চাপ দেওয়ার পর লেন্সের শাটার ওপেন হয়ে আলো সেন্সরে এসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবিটিকে মেমোরিতে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত পুরো প্রসেসটি সম্পন্ন করতে সামান্য কিছু সময় লাগে। এই সময়কে Shutter lag বলে। 52. কমদামী ও দূর্বল কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় Shutter lag সেকেন্ডের বেশি হতে পারে। তাই এই ধরনের ক্যামরায় শুট বাটন চাপ দেওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড ক্যামেরা স্থির ভাবে ধরে রাখতে হয়, অন্যথায় ছবি ঝাপসা হতে পারে। 53. স্লো শাটার স্পীডে ক্যামেরা Tripod-এ রেখে ছবি তুলুন অথবা স্থির কিছুর উপর ক্যামেরা রেখে সেলফ টাইমার ব্যবহার করুন। 54. এলসিডি ডিসপ্লের পাশাপাশি যদি ভিউ ফাইন্ডারও থাকে তবে ছবি তোলার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিউ ফাইন্ডার ব্যবহার করুন। 55. এসএলআর ক্যামেরায় লেন্সের মুখে একটি UV ফিল্টার লাগিয়ে রাখুন। তাতে বাইরের কোন আঘাত বা ঘর্ষণে লেন্সের ক্ষতি হবে না। 56. প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা অন করে না রাখলে, ঘন ঘন ফ্লাশ ব্যবহার না করলে এবং তোলা ছবি বারবার প্লে করে না দেখলে ব্যাটারির চার্জ কম খরচ হয়। 57. ফটোগ্রাফির যে কোন টিপস্ ও পরামর্শ পেলে নোট করে রাখুন। কারণ স্মৃতি প্রতারণা করলেও লিপি তা করে না। 58. ভোরের ও বিকালের সূর্যের আলোতে সাধারণত ছবি ভালো হয়। 59. যে স্থানে ছবি তোলবেন সেটি প্রথমে নিজের চোখ ও হৃদয় দিয়ে অবলোকন করুন, তারপরে ক্যামেরা দিয়ে দেখুন। 60. সূর্যের আলো লেন্সে পড়ে ছবিতে যে লেন্স ফেয়ার তৈরি করে তা থেকে রক্ষা পেতে লেন্স হুড ব্যবহার করুন। 61. সম্ভব হলে ক্যামেরার সর্বোচ্চ কোয়ালিটি ও মেগাপিক্সেল ব্যবহার করে ছবি তুলুন। প্রয়োজনে পরে রিসাইজ করতে পারবেন। 62. Exploser সেটিং-এ ISO যত কম রাখা যায় ততই ভালো, বেশি ISO ছবিতে নয়েজ সৃষ্টি করে। 63. নিজের তোলা ছবির সমালোচনা গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 64. পোট্রেইট ছবিতে সাবজেক্টের পোজ, দৃশ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড এমনভাবে নির্বাচন করুন যাতে যার ছবি তোলা হবে তার ব্যক্তিত্বও ফুটে উঠে। 65. ফ্লাশ ব্যবহারের আগে সাবজেক্টের কোন অসুবিধা হবে কিনা জেনে নিন। তাছাড়া অনেক যাদুঘর ও আর্ট প্রদশর্নীতে ছবি তোলার অনুমতি থাকলেও ফ্লাশ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকে। 66. নবজাতকের ছবি তোলার সময় ফ্লাশ ব্যবহার করবেন না। 67. ফটোগ্রাফ সম্পর্কিত বই, পত্র-পত্রিকা, ব্লগ- ফোরাম ইত্যাদি চর্চা করুন। 68. ক্যামেরার ম্যানুয়েল মুডে ছবি তোলার চেষ্টা করুন। তাতে ক্যামেরা ও ছবির উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 69. ছবিতে আলো ও রংকে উচ্চমাত্রায় নিয়ন্ত্রন করতে লেন্সে আলাদা ফিল্টার ব্যবহার করুন। 70. আপনার আশেপাশের সুন্দর জায়গাগুলো চিনে রাখুন। সুযোগ পেলে ভালো আবহাওয়ায় সেখানে গিয়ে ছবি তুলুন। 71. ফটোসাংবাধিক হিসেবে ছবি তোলার সময় ছবির শিল্পের চেয়ে তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। 72. ব্যক্তির ছবির ক্ষেত্রে ভালো ছবি উঠলে নিজে বাহবা না নিয়ে ছবির ব্যক্তিকে প্রশংসা করুন। 73. ছবি তোলার সময় শুধু ক্যামেরাতে চোখ রাখলে চলবে না। নিজের অবস্থানের আশেপাশেও নজর রাখুন, যাতে কোন দূর্ঘটনা না ঘটে। 74. যার/যাদের ছবি তোলবেন তার/তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন। তাহলে সবাই অপনার সাথে ছবি তুলতে স্বাছন্দ্য বোধ করবে। 75. কখনও জোর করে কারো ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না। 76. ছবি তোলার জন্য তাড়াহুড়ো করে কোন দৃশ্য সিলেক্ট না করে আশেপাশে চারিদিকে একটু ঘুরে দেখুন। হয়তো আরো ভালো দৃশ্য পেয়ে যেতে পারেন। 77. Histogram বোঝার চেষ্টা করুন, এটি ছবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে। 78. ছোট সাবজেক্টের ছবি তোলার সময় খুব কাছে গিয়ে সর্বোচ্চ জুমিং করে ফোকাস করুন। এধরনের ছবির জন্য অনেক ক্যামেরায় ম্যাক্র জুম অপশন থাকে। 79. আপনার ছবি সম্পর্কে অন্যেরা কি বলবে তা নিয়ে ভাববেন না। আপনি যদি নিজে পছন্দ করেন তাহলে তা মিডিয়ায় প্রকাশ করুন। 80. যে ধরনের দৃশ্য আপনি পছন্দ করেন এবং যেসব সাবজেক্টে আপনার উৎসাহ বেশি সে ধরনের ছবি বেশি তুলুন। 81. সম্ভব হলে সবসময় Tripod ব্যাবহার করুন, এতে অনেক কঠিন ছবি তোলা সহজ হয়। 82. সাবজেক্টের আচার-আচরণ ও লাইফস্টাইল পর্যবেক্ষন করুন। তাহলে আগেই বোঝতে পারবেন ছবি তোলার সঠিক মুহুর্তটি কখন আসবে। 83. সাবজেক্টকে সেন্টারের বাইরে রেখে ফোকাস করতে অসুবিধা হলে আগে ফোকাস করে তারপর সেন্টার থেকে সরিয়ে শ্যুট করুন। 84. খেলাধুলার বিশেষ মুহুর্ত এবং শিশুদের ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ার বিশেষ মুহুর্তগুলোর ছবি তোলতে আবহেলা করবেন না। কারণ এধরনের মুহুর্ত আর নাও আসতে পারে। 85. সূর্যোদয়ের পরে এক ঘন্টা ও সূর্যাস্তের আগে এক ঘন্টা ছবি তোলার সবচেয়ে ভালো সময়ে। ফটোগ্রাফির ভাষায় এই সময়কে magic hour বলা হয়। 86. পোট্রেট ছবি তোলার সময় সাবজেক্টকে relux করার জন্য হাস্যরসাত্মক কথাবার্তা বা গানবাজনা ব্যবহার করা যেতে পারে। 87. ভ্রমনের সময় এমনভাবে ছবি তুলুন যেন স্থানীয় লোকের লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য স্থানীয় তথ্য ফুটে উঠে। 88. দৃশ্যে দিগন্তরেখা, দীর্ঘ সৈকত, উপকূল, দীর্ঘ সোজা রাস্তা ইত্যাদি থাকলে সেগুলোকে ছবির কোন পাশে রাখলে ভালো দেখাবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। 89. ফ্লাশের আলোকে সরাসরি সাবজেক্টের ওপরে না ফেলে আশেপাশের দেয়ালে বা ছাদে বাউন্স করে ফেললে ছবি ভালো হয়। 90. যেখানে আলো কম সেখানে ISO বাড়িয়ে ছবি তুলুন। 91. গতিশীল সাবজেক্টের ছবিতে সাবজেক্টের আগে ও পিছে কিছু খালি জায়গা রাখুন। 92. গতিশীল সাবজেক্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাবজেক্ট যেসব স্থানে আসবে তার যে কোন একটি স্থানের ফোকাস ক্যামেরাতে রেডি করে রাখুন। সাবজেক্ট সে জায়গায় আসা মাত্রই শট নিন। 93. ’ডেফথ অফ ফিল্ড’ কমিয়ে সাবজেক্টকে ফোকাস করে ব্যাকগ্রাউন্ডকে ব্লার করা যায়। 94. সূর্যাস্ত বা দূরের কোর প্রাকৃাতক দৃশ্যের ছবি নেওয়ার সময় ফোরগ্রাউন্ড (দৃশ্য ও ক্যামেরার মধ্যবর্তী স্থান) খালি না রেখে প্রাকৃাতিক কিছু রাখুন – ছবিটি ত্রিমাত্রিক এফেক্ট পাবে। 95. কোন সাবজেক্টের বিশালতা বা ক্ষুদ্রতা প্রকাশের জন্য ছবিতে সাবজেক্টের আশেপাশে এমন কিছু রাখুন যাতে দর্শক বোঝতে পারে সাবজেক্টটি কত বড় বা ছোট। 96. প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি প্যানারমিক হলে সুন্দর দেখায়। আপনার ক্যামেরাতে সীনমুডে Panaromic অপশন থাকলে তা ব্যবহার করুন। বড় সাইজের ছবি তোলে পরে ক্রোপ করেও প্যানারমিক করা যায়। 97. যার ছবি তোলা হবে তাকে যে সবসময় ক্যামেরার দিকে তাকাতে হবে এমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। সাবজেক্টের স্বাভাবিক মুডের ছবি তোলার চেষ্টা করুন। 98. নিজের তোলা ছবি প্রদর্শনী বা ওয়েবসাইটে দেওয়ার আগে জেনে নিন কোন সাইজটি সেখানকার জন্য প্রযোজ্য। আরজিন্যাল ছবির কপি রিসাইজ করে সেখানে পাঠান। 99. এমনভাবে ছবি তুলবেন না যা দেখলে অসম্পূর্ণ মনে হয়। ছবি এমন হওয়া উচিত যাতে দর্শক সব তথ্য পেয়ে যায়। 100. গ্রাফিক্স প্রোগ্রামে ছবি এডিট করার পর আলাদাভাবে সেভ করুন। পরে অডিট ছবিটি ভালো না লাগলে আগের ছবিতে ফিরে যেতে পারবেন। 101. রঙিন ছবিকে সহজে সাদা-কালো করা যায়। তাই ডিজিটাল ক্যামেরায় রঙিন ছবি তোলা উচিত। 102. ডিজিটাল ছবি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ছবি তোলার স্থান, তারিখ ও উপলক্ষ ইত্যাদির সমন্বয়ে নতুন ফোল্ডারের নাম দিন। তাতে পরে ছবি খুজেঁ বের করতে সুবিধা হয়। ছবি অন্তত দুই জায়গায় সেভ করুন – হার্ডডিস্ক ও সিডি বা ডিবিডিতে। 103. ভালো ফটোগ্রাফার হওয়ার শর্টকাট কোন রাস্তা নেই। ধৈর্য্য, আগ্রহ ও চেষ্টার সমন্বয়েই সম্ভব ভালো ছবি তোলা। 104. কোন ছবির সমালোচনা করার সময় ছবিটি ভালো বা খারাপ হওয়ার কারণগুলোও বর্ণনা করুন। 105. নিজের তোলা ছবিগুলো আপনার চেয়ে বড় ফটোগ্রাফারকে দেখান এবং তাদের সমালোচনা গ্রহণ করুন। 106. সব ধরনের ছবিতে এক্সপার্ট হওয়া কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফটোগ্রাফির বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা থেকে আপনার সবচেয়ে পছন্দের একটি শাখায় বেশি মনোযোগী হউন, তাতে কম সময়ে ভালো ফলাফল পেতে পারেন। 107. ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিন। কোন ছবির ভুল- ত্রুটিগুলো আবিষ্কার করার পর সম্ভব হলে একই স্থানে গিয়ে আবার ছবি তুলুন। 108. ভালো ছবি তোলার জন্য সবসময় এক্সপেরিমেন্ট করুন। ভালো ফটোগ্রাফারদের প্রসিদ্ধ ছবিগুলো পর্যবেক্ষন করুন এবং ছবির কারিগরি ও শৈল্পিক কলাকৈশল বোঝতে চেষ্টা করুন। ভালো ফটোগ্রাফার হতে সময় লাগে। 109. উপসনালয়, সরকারী স্থাপনা ও সামরিক এলাকার ছবি তোলার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন। 110. অন্য ফটোগ্রাফারের কোন স্টাইল হুবুহু কপি না করে ছবিতে নিজস্ব স্বাতস্ত্র-বৈশিষ্ট্য আনার চেষ্টা করুন। 111. সম্ভব হলে ক্যামেরাটি সব সময় সাথে রাখুন (বিশেষ করে কমপ্যাক্ট ক্যামেরা যা সহজেই বহন করা যায), ছবি তোলার একটি দূর্লভ মুহুর্ত যে কোন সময় আসতে পারে। 112. ক্যামেরা সবসময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। 113. বিশেষ কোন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে ছবি তোলার সময় ব্যাটারি ও মেমোরি স্পেসের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় শুরুতে অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পরে আর গুরুত্বপূর্ণ ছবি তোলা সম্ভব হয় না। 114. ছবি তোলার মুহুর্তগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করুন। তাহলে ফটোগ্রাফিতে একঘেঁয়েমি আসবে না। 115. সম্ভব হলে একাধিক ফটোগ্রাফারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে। 116. ফটোগ্রাফিতে নিজেকে কখনও অন্যের তুলনায় ভালো বা খারাপ কোনটিই মনে করবেন না। 117. ফটোগ্রাফিতে নিজস্ব একটি স্টাইল তৈরি করার চেষ্টা করুন। 118. আপনার তোলা ছবিগুলো থেকে শ্রেষ্ট ১০০ ছবিকে আলাদা করে রাখুন। নতুন ভালো ছবি যোগ করে একে নিয়মিত আপডেট করুন। 119. ভালো ছবি ভাগ্য ও বাই চান্সে হয় না, একে ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফার সৃষ্টি করে। 120. শুধু ক্যামেরা ভালো হলেই ছবি ভালো হয় না। ভালো ছবির জন্য প্রয়োজন ক্যামেরার পিছনে একজন দক্ষ মানুষ।

On Side Love

"একমুখী ভালোলাগা খুব বিপজ্জনক ... এক ধরণের ভয়ঙ্কর মানুষ আছে, তারা যখনই টের পাবে, তুমি তাকে পছন্দ করো, তখনই সে তোমার দুর্বলতার সুযোগ নিবে ... কারণ সে জানে, তোমাকে সে এক ফোঁটা পাত্তা না দিলেও বিনিময়ে তুমি তার ১০০% কেয়ার করবা !!ইংরেজিতে একটা Phrase আছেঃ "Taking Anything For Granted" ... ঐ মানুষটার জন্য তুমি এরকম ... That Person Took You For Granted ... এটার অর্থ হলো, তুমি ঐ মানুষটার কাছে খুবই সস্তা একটা পণ্য ... সে না চাইতেই তোমার কেয়ার পাচ্ছে, তোমার সবটুকু মনোযোগ পাচ্ছে ... তুমি তাকে সময় দিচ্ছো, তোমার সমস্ত আবেগ উজাড় করে দিচ্ছো ... সে এই সমস্ত কিছু উপভোগ করছে আর মজা পাচ্ছে !!
যখন মানুষটা তোমার কাজেকর্মে টের পেয়ে যাবে, তার প্রতি তোমার অতিরিক্ত ভালোলাগা কাজ করছে, মানুষটার তখন মনে হবেঃ "বাহ, এমনি এমনিই কেউ একজন প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার মত আমার কেয়ার করছে, খোঁজ নিচ্ছে, ঘুরছে, ফিরছে, আবেগ দেখাচ্ছে... কিন্তু দিনশেষে তার সাথে আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই, কোন পাল্টা দায়িত্ববোধ নেই, কোন কমিটমেন্ট নেই... বেশ মজা তো... ভালোই তো লাগছে... চলুক না এমন !!"তিতা সত্যিটা এটাই যে, মানুষটা তোমার সঙ্গ উপভোগ করছে... হয়তো তার কোন ভালোবাসার মানুষ আছে, পাশাপাশি সে তোমার সাথেও আছে... সে তোমাকে স্পষ্টভাবে কখনোই জানাবে না, সে তোমাকে ভালোবাসে কিনা, সে তোমার সাথে সম্পর্কে জড়াবে কিনা, সে তোমাকে বিয়ে করবে কিনা... তুমি তাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেও লাভ নেই... তোমার প্রশ্নের সহজ উত্তরও সে এড়িয়ে যাবে... হ্যাঁ কিংবা না কিছুই বলবে না !!মানুষটা হয়তো তোমাকে পাত্তা দিবে না, কেয়ার করবে না... কিন্তু কোনভাবে তোমাকে হাতছাড়াও করবে না... কোন না কোনভাবে সে তোমাকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে রাখবে... খাঁচায় আটকে থাকা পাখির মত তুমি ছটফট করবে... সে দেখেও না দেখার ভান করবে !!তুমিও ঐ মানুষটার কাছ থেকে সরে আসতে পারবে না... কারণ তুমি দুর্বল... ঐ মানুষটার সাধারণ একটা "কেমন আছো?" - শুনেই তুমি আপ্লুত হয়ে যাও... একদিন মানুষটা নিজ থেকে কথা বললেই তুমি ভেবে নেও, মানুষটা তোমাকে কেয়ার করে... কিন্তু সত্যিটা তুমি নিজেও জানো... মানুষটা আসলে তোমাকে এক বিন্দুও ভালোবাসে না... সত্যিটা জেনেও তুমি একদমই মানতে চাও না !!সময় থাকতে এরকম মানুষের কাছ থেকে সরে আসো... নিজের ভালোর জন্যই সরে আসো... যে সম্পর্কের কোন নাম নেই, প্রতিশ্রুতি নেই, ভবিষ্যৎ নেই - এমন সম্পর্ক থেকে সরে আসো... হয়তো ভাবছো, তুমি সরে আসতে পারবে না ... মানুষটাকে ছাড়া থাকতে পারবে না... তার চেয়ে বরং চলুক না এমন !!তোমার এই ভাবনাটাও ভয়াবহ ভুল... তুমি এতটা সস্তা না... তুমি এতটা আত্মসম্মানবিহীন মানুষ না... কেউ একজন তোমার আবেগের সুযোগ নিয়ে তোমার সঙ্গ উপভোগ করবে আর তুমি চুপ করে বসে থাকবে ??... জেনেশুনে তুমি বিষের পেয়ালাতে চুমুক দিয়ে যাচ্ছো... নিজের জীবনটা এতটা মূল্যহীন না... তাই আরেকবার ভাবো !!জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না... আজকে তুমি যাকে ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব বলে ভাবছো, সেই মানুষটা তোমার জীবনে আসার আগেও তুমি দিব্যি বেঁচে ছিলে... সেই মানুষটা জীবন থেকে চলে গেলেও তুমি বেঁচে থাকবে... হয়তো একটু কষ্ট হবে শুরুতে... এক সময় অভ্যাস হয়ে যাবে !!একদিন তুমি পাথর হয়ে যাবে... তোমাকে ভাঙ্গা যাবে না... আজকে হয়তো একটা মানুষের জন্য তুমি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছো... একদিন তোমার আর ঐ মানুষটার জন্য কিছুই যাবে আসবে না... কিছুতেই কিছু যাবে আসবে না !!"

তুমি যেখানেই যাও


নক্ষত্রেরা স্থান বদলায়
ভ্রমণকারিণী হয়ে তুমি য়েলে
কার্শিয়াং
অন্য এক পদশব্দ পেছনে শোনো নি?
তোমার গালের পাশে ফুঁ দিয়ে কে
সরিয়েছে
চুর্ণ অলক?
তুমি সাহসিনী,
তুমি সব জানলা খুলে রাখো
মধ্যরত্রে দর্পণের সামনে তুমি
এক হাতে চিরুনি
রাত্রিবাস পরা এক স্থির চিত্র
যে রকম বতিচেল্লি এঁকেছেন:
ঝিল্লীর আড়াল থেকে
আমি দেখি
তোমার সুটাম তনু
ওষ্ঠের উদাস-লেখা
স্তনদ্বয়ে ক্ষীণ ওঠা নামা
ভিখারী বা চোর কিংবা প্রেত নয়
সারা রাত
আমি থাকি তোমার প্রহরী।
তোমাকে যখন দেখি, তার চেয়ে
বেশি দেখি
যখন দেখি না
শুকনো ফুলের মালা যে-রকম বলে দেয়
সে এসেছে
চড়ুই পাখিরা জানে
আমি কার প্রতিক্ষায় বসে আছি
এলচের দানা জানে
কার ঠোঁট গন্ধময় হবে-
তুমি ব্যস্ত, তুমি একা, তুমি অন্তরাল
ভালোবাসো
সন্ন্যাসীর মতো হাহাকার করে উঠি
দেখা দাও, দেখা দাও,
পরমুহূর্তেই ফের চোখ মুছি
হেঁসে বলি,
তুমি যেখানেই যাও, আমি সঙ্গে
আছি!

* বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপ ভাঙ্গনের কারন এবং প্রতিকার *

* বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপ ভাঙ্গনের কারন এবং প্রতিকার *
- সাকিল রুহানী সরকার ( CSE , Islamic University, Kushtia ) 


জীবন ও বন্ধুত্ব একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । প্রতিটি মানুষের জিবনে বন্ধুর বিকল্প নেই , কারন ভাল বন্ধু আপনার জীবনের জন্য একটি অনন্য সম্পদ ।
বন্ধু অনেক প্রকারই হয়ে থাকে যেমন - স্বাভাবিক বন্ধু , ভাল বন্ধু , সবচেয়ে ভাল বন্ধু বা বেষ্ট ফ্রেন্ড ।
আমি এসব বন্ধুর সংজ্ঞা অনেক দিন আগেই ফেসবুকের একটি পোষ্টের মাধ্যমে দিয়েছিলাম তাই আজ আর এ সমন্ধে কথা বলছিনা ।
আজ বলব বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপের ভাঙ্গন প্রতিরোধ বিষয়ে , সাধারনত আমারা দেখে থাকি কোন ছবিকে ( ডিজিটাল ভার্শন ) যতটা জুম ইন করা যায় সেই ছবিটার ত্রুটি তত বেশী চোখে পরে , এমনি ভাবে একজন বেষ্ট ফ্রেন্ডের যত কাছে চলে আসবেন অর্থাৎ সম্পর্ক যতটা সুন্দর হবে আপনার একে অন্যের ভুল গুলো আপনার চোখে ততটা বড় আকারে আসবে , এর মানে এই নয় যে আপনি তাঁকে খারাপ ভাবছেন , এর মানে আপনি তাঁকে অনেক বেশী ভালবাসেন তাই হয়তো তাঁর এই সামান্য দোষটিও আপনার চোখে ধরা পড়ছে । অথচ দেখুন যখন আপনারা সাধারন ফ্রেন্ড ছিলেন তখন আপনাদের মাঝে কোন ভুল ধরা ধরি ছিলনা , ভাবছেন তাহলে তো সাধারন ফ্রেন্ডই ভাল ছিলাম , নাহ ভুল ভাবছেন !!
এটাই বেস্ট ফ্রেন্ডশীপ ও সাধারন ফ্রেন্ডশীপের মাঝে পার্থক্য নির্দেশ করে !
কেননা কোন একজন বিক্ষাত মনিষী বলেছেন , “ একজন ভাল বন্ধু একে অন্যের জন্য আয়না স্বরূপ “ অর্থাৎ আয়নাতে যেমন আপনার চেহারার সৌন্দর্য বুঝতে পারেন তেমনি আপনার বেষ্ট ফ্রেন্ডটির মাধ্যমেও আপনার ভুল গুলি বুঝতে পারবেন । তাই এতাকে পজিটিভলী নিন , কই আর কেউ তো আসেনি এই ভুল ধরিয়ে দিতে !!
আর বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটি হল , একে অন্যের প্রতি অধিকার বা দ্বায়বদ্ধতা
। অধিকার এরুপ যে, ধরুন আপনি একটি কাজ করতে চাচ্ছেন কিন্তু সেটি আপনার বন্ধুর কাছে খারাপ মনে হচ্ছে তাই আপনাকে তাঁর বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপেরে অধিকার থেকেই করতে নিষেধ করছে এবং সেটি জোর নির্দেশ কিংবা চোখ রাঙিয়ে , আবার একটি ভাল কাজ আপনি করতে চাচ্ছেন না কিন্তু সে জোর করছে সেটি করতে সেটিও কিন্তু তাঁর বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপের অধিকার থেকেই ।
এই সমস্ত কিছুকে আপনি ভাল ভাবে নিন , কেননা সে কখনোই আপনার খারাপ চাইবেনা
তাই তাঁর আদেশ কিংবা নিষেধ পালন করার চেষ্টা করুন , এটাকে কখনোই পেইন হিসেবে সঙ্গায়িত করবেন না , কখনোই না ।
আর একটি বিষয় সেটি হল, সে আপনাকে অন্য এক ব্যাক্তির সাথে মিশতে নিষেধ করছে ? মিশবেন না ওই ব্যাক্তির সাথে, কেনানা ওই ব্যাক্তি আপনার বেষ্ট ফ্রেন্ড এর শত্রুও হতে পারে, কেননা শেখ সাদি বলেছেনঃ " তোমার শত্রুর বন্ধু কখনোই তোমার বন্ধু হতে পারেনা "।
দেখবেন আপনার বেষ্ট রিলেশনশীপ কখনোই নষ্ট হবেনা কারন বেষ্ট ফ্রেন্ডশীপে কমিটমেন্ট বলে একটা কথা আছে ।
এখন আসি ভুল বুঝা বুঝির ব্যাপারে , ভুল বুঝাবুঝি একটি ফ্রেন্ডশীপের মাঝে দেখা দিবেই তাই বলে এটিকে কেন্দ্র করে রিলেশন ভাঙা একদমই ঠিক হবেনা , একটা কথা মনে রাখবেন মাঝে মাঝে আমরা যা চোখে দেখতে পাই তা ঘটেনা আবার যা দেখিনা আসলে সেটিই ঘটে থাকে অথচ সেটি আমাদের চোখে ধরা পড়েনা ( বিষয়টি ভালভাবে বুঝুন ) !
ভুল বুঝাবুঝির কারনে আপনাদের রাগা রাগি হয়েছে ? দুই –তিন দিন কথা হচ্ছেনা ?
হ্যাঁ , এরুপ হতেই পারে আসলে এটা কিন্তু পজিটিভ দিক , এটাই বলে দিচ্ছে যে আপনাদের সম্পর্ক টি বেষ্ট ফ্রেন্ড এর কেননা বেষ্ট ফ্রেন্ডই একমাত্র আপনার উপর এসব কারনে রাগ করতে পারে ।
আর এ ক্ষেত্রে আপনি কিন্তু নিজে থেকে প্রথমে কল করতে পারেন কিংবা নিজেই প্রথমে কথা বলা শুরু করতে পারেন ।
এ ক্ষেত্রে কখনোই আপনার ইগোকে প্রশ্রয় দিবেন না , কখনোই ভাববেন না যে আমি কেন আগ বাড়িয়ে কথা বলব , আমি কি অপরাধ করেছি নাকি ? এসব কখনোই ভাববেন না প্লিজ ।
নিজেদের বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখতে একে অপরের কাছে ছোট হোন , এতে সম্মানহীনতার কিছু নাই , বরং আপনি এই রকমের বন্ধু যে কিনা কখনোই রিলেশন ভাঙ্গতে চায়না এটা ভেবে নিজেকে গর্বিত ভাবতে পারেন ।
আপনাদের মাঝে কথা হচ্ছেনা তাই আপনিই প্রথমে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারেন যে, বন্ধু আমি তোকে অনেক ভালবাসি (ছেলে বন্ধুর ক্ষেত্রে ) , তোকে ছাড়া ভাল লাগছেনা আমার ইত্যদি ।
অথবা মেয়ে-ছেলেদের ক্ষেত্রেও আপনিই প্রথমে গিয়ে বললেন যে আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারছিনা ( আসলেই কিন্তু তাই ) , তুই আমার সাথে কথা না বললে ভাল লাগেনা কিংবা তাঁকে চকলেট কিনে এনে হাজির হয়ে সরি বলে রাগ ভাঙ্গাতে পারেন ( অপরাধ আপনার হোক আর না হোক , বন্ধুত্তের জন্য অন্তত নিচু হোন ) , সে কখোনোই রাগ না কমিয়ে থাকতে পারবেনা , আসলে আপনিও যেমন টা কথা বলার জন্য মুখিয়ে আছেন তদ্রুপ তিনিও চান যে আপনি কথা বলুন । শুধু মুখে বলতে পারছেনা এই আর কি । পেইন কিন্তু সমানই পাচ্ছেন !!
আর কখোনই ৩য় পক্ষের থেকে কোন গুজব কানে নিবেন না , কেননা আগেই বলেছি কারনটি , প্রকৃতিও নাকি পরিপূর্ণ সৌন্দর্য সহ্য করতে পারে না !
আপনার ভাল সম্পর্ক অন্য একজনের কাছে হিংসার করন হয়ে দাড়ায় নি এটা গ্যারান্টি দিতে পারবেন না !! আপনাদের ভাঙা অবস্থা দেখে অনেকেই মনে মনে পুলোকিত হয়েছে যা কখোনোই বুঝতে পারবেন না !!!
পরিশেষে , যাদের সাথে এমন হয়েছে যে অনেক দিনের ভাল সম্পর্ক কিছু কারনে ভেঙ্গে যাচ্ছে , আপনার উচিৎ আজই এই মহুরতে তাঁর সাথে কথা বলা , কিংবা খুদে বার্তা পাঠানো ( আপনি নিজে থেকেই আগ বাড়িয়েই এসএমএস টি করুন ) , বলুন “ আই এম সরি !! “ “ অনেক ভালবাসি তোকে “ “ আমাকে ক্ষমা করে দে “ ।
দেখবেন সেও সব কিছু ঠিক মত নিয়ে নেবে , কেননা সেও চায় তাদের সম্পর্ক ভাল থাকুক ( অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্যাপার ) । ফলফাল পেতে দু একদিন দেরী হলেও সে ঠিক হয়ে যাবে , গ্যারান্টি !! কেননা আপনাকে ছাড়া সেও সুখে নেই , আপনি তাঁর সুখের খোলশ দেখতে পান , কিন্তু পেইন টা না !!!
আমি অনুরোধ করছি কাজটি এখনই করুন , দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে ।
বেষ্ট ফ্রেন্ড কে ফিরে পেতে এই টূকু করুন , হিংসুকদের মুখে কুলুপ দিতে এই টুকুই যতেষ্ঠ !
ভাল থাকুক বেষ্ট ফ্রেন্ড শীপ , অমর হোক আপনাদের সম্পর্ক ।
বন্ধু যেমনি হোক , বন্ধুত্ব থকুক আজিবন ।